ইফতারে টক দই খাওয়ার ৭ উপকারিতা

রোজায় সারাদিন উপোস থাকার পর ইফতারে টকদই খেতে পারেন। জানু্‌ন, রোজায় ইফতারে টকদই খাওয়ার উপকারিতা কি।

ইফতারে টক দই খাওয়ার উপকারিতা

সারাদিন রোজা রেখে ইফতারে ভাজা পোড়া, ভারি মসলাযুক্ত খাবার আমাদের শরীরকে বঞ্চিত করে পর্যাপ্ত পুষ্টি থেকে। সেই সঙ্গে ভাজাপোড়া খাওয়ার ফলে শরীর খারাপ লাগা, হজমে সমস্যাসহ নানা রোগ হতে পারে। তাই ইফতার ও সেহরিতে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া খুবই জরুরী।

রোজা রাখার ফলে আমাদের শরীরে শক্তি ও হাইড্রেশনের উপর প্রভাব পড়ে। তাই এই সময় হাই প্রোটিন ও মিনারেলস সমৃদ্ধ খাবার। যেগুলো শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটগুলি পুনরায় পূরণ করতে, হজমে সহায়তা করতে, এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। দই এমনই একটি খাবার যা আমাদের শরীরে এসব চাহিদা পূরণ করতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে ইফতারে টক দই খাওয়ার কিছু উপকারিতা রয়েছে। আসুন এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।

টক দই খাওয়ার উপকারিতা

ইফতারের সময় দই খাওয়া শরীরের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রদান করতে পারে। যেমন হজমে সহায়তা করা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা, হাড়ের স্বাস্থ্য বৃদ্ধি করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, প্রোটিন সরবরাহ করা এবং শরীরকে হাইড্রেট করা।

এতে আছে, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, বিটামিন বি১২, পটাসিয়াম, ফসফরাস ও প্রোবায়োটিক্স এর মতো আরো অনেক প্রয়োজনীয় মিনারেলস যা আমাদের বিভিন্ন সাস্থ্য উপকারিতা দিতে সক্ষম।

আরও পড়ুন: ইফতারে কলা খাওয়ার ৫ উপকারিতা

নিচে টক দই এর কিছু সাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হলো-

১. হজমে সাহায্য করে

দই প্রোবায়োটিকের একটি সমৃদ্ধ উৎস, যার উপকারী ব্যাকটেরিয়া খাদ্যকে ভাঙতে, সহজে হজম করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ইফতারের সময় দই খাওয়া অন্ত্রের উন্নতি করে। হজমের নানা সমস্যা যেমন ফোলাভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ডায়রিয়া প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

২. ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে

দই খুব কম গ্লাইসেমিক সূচক রয়েছে যা ধীরে ধীরে শোষিত হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি হতে দেয় না। এই জন্য দই ইফতারের সময় খাওয়ার জন্য একটি আদর্শ খাদ্য। কারণ রোজার রাখার পর শরবত বা অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে আমাদের শরীরে শর্করার মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। কিন্তু টক দই শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্ষুধা রোধ করতেও সহায়তা করে।

৩. হাড়ের স্বাস্থ্য বাড়ায়

দই ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের একটি দারূণ উৎস। এই দুটি মিনারেলস আমাদের শক্তিশালী হাড় এবং দাঁতের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। ইফতারের সময় দই খাওয়া আমাদের হাড়ের ঘনত্ব বাড়িয়ে মজবুত করে, অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধ এবং সামগ্রিক হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতেও সাহায্য করে।

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

দইতে lactobacillus acidophilus এবং bifidobacterium এর মতো উপকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে সংক্রমণ ও রোগ থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও এতে জিংক রয়েছে যা দই খাওয়া সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার প্রচার করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

৫. প্রোটিন প্রদান করে

সারাদিন রোজা রাখার পর আমাদের শরীরে শক্তির প্রয়োজন যা প্রোটিন জাতীয় খাবার থেকে আসতে পারে। আর দই প্রোটিনে ভরপূর একটি খাবার যা শরীরের শক্তি বৃদ্ধি, টিস্যু, পেশী তৈরি এবং মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয়। ইফতারের সময় দই খাওয়া শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন সরবরাহ করতে সাহায্য করে।

৬. শরীরকে হাইড্রেট করে

দই হল পানি এবং ইলেক্ট্রোলাইটের একটি সমৃদ্ধ উৎস, যেগুলো শরীরকে হাইড্রেট করার জন্য এবং দিনে উপোস থাকার ফলে পানিশূণ্যতা রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয়। ইফতারের সময় দই খাওয়া শরীরকে হাইড্রেট করতে, ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে।

৭. ওজন কমায়

রোজা ওজন কমানোর এক সুবর্ণ সুযোগ। রোজা থাকার কারণে আমাদের শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ক্ষয় হতে থাকে এবং শক্তিতে রুপানতরিত হয়। কিন্তু সারাদিন উপোস থাকার পর ইফতারে ভাজা-পোড়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে উল্টো আমাদের ওজন বেড়ে যেতে পারে।

ইফতারে টক দই খাওয়ার নিয়ম

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে পেট ঠান্ডা রাখতে এবং হজমশক্তি বাড়াতে টক দইয়ের জুড়ি নেই। প্রতিদিন একইরকমভাবে টক দই খেতে একঘেয়ে লাগবে। তাই ভিন্ন ভিন্ন রেসিপিতে টক দইয়ের পদ তৈরি করা যায়। ইফতারে টক দই খাওয়ার কয়েকটি দারুণ রেসিপি সংক্ষেপে দেওয়া হলো।

দই-চিঁড়া: ইফতারে দ্রুত শক্তি জোগাতে দই-চিঁড়ার বিকল্প নেই। নরম করে ভেজানো চিঁড়ার সাথে ফেটানো টক দই, কলার টুকরো, খেজুর কুচি এবং স্বাদমতো সামান্য মধু মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যায় এই মজাদার খাবার। স্বাদ ও পুষ্টি বাড়াতে ওপরে ছড়িয়ে দিতে পারেন কিছু বাদাম ও কিসমিস। এটি পেট ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে।

ছোলা, শসা ও গাজরের সালাদ: সেদ্ধ করা ছোলা একটি বড় বাটিতে নিয়ে তাতে কুচি করা শসা, গাজর, টমেটো এবং সামান্য কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতা মিশিয়ে নিন। এবার অন্য একটি পাত্রে টক দইয়ের সাথে সামান্য বিট লবণ, গোলমরিচ গুঁড়া এবং সামান্য টালা জিরার গুঁড়া দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন। সবশেষে এই দইয়ের মিশ্রণটি ছোলার সালাদের ওপর ঢেলে হালকা হাতে মেখে নিয়ে খেতে পারেন। দীর্ঘ সময় এটি আপনার পেট ভরপুর রাখবে। ইফতারের একটু আগেই এটা প্রস্তুত করতে হবে।

টক দইয়ের মাঠা: সারাদিনের পানিশূন্যতা ও ক্লান্তি দূর করতে টক দইয়ের ঘোল বা মাঠা জাদুর মতো কাজ করে। ব্লেন্ডারে টক দই, পরিমাণমতো ঠান্ডা পানি, সামান্য পুদিনা পাতা বাটা, টালা জিরার গুঁড়া ও বিট লবণ একসাথে ব্লেন্ড করে নিন। চাইলে সামান্য কাঁচা মরিচও দিতে পারেন। গ্লাসে বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করা এই পানীয়টি ইফতারে এনে দেবে দারুণ প্রশান্তি।

ইফতারে এমন খাবার রাখা উচিত যা আমাদের শক্তি বাড়াবে এবং চর্বি কমাতে সাহায্য করবে। এজন্য দই হতে পারে আপনার ইফতারের জন্য একটী উপযুক্ত খাবার। এটি কম-ক্যালোরিযুক্ত খাবার যা ক্ষুধা হ্রাস করে এবং পূর্ণতার অনুভূতি প্রদান করে ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

যারা এই রোজায় ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ খাবার। তবে টক দইয়ের ক্ষতিকর দিক ও রয়েছে।

Similar Posts

মন্তব্য করুন